মস্তিষ্কের রোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মস্তিষ্কের রোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

মৃগী বা এপিলেপ্সি (Epilepsy)


অনেকে একে খীচুনি রোগ হিসেবেও চিনে থাকে। মৃগী বা এপিলেপ্সি রোগ হলে হঠাৎ করে ঘন ঘন খীচুনি হয়। আমরা এবং আমাদের সমস্ত অংগ প্রতংগ মস্তিস্কের নির্দেশ অনুযায়ী চলিআমাদের অজান্তেই মস্তিস্ক ক্রমাগতভাবে এই নির্দেশ পাঠাতে থাকে। কোনো কারণে মস্তিস্ক ঠিক মতো নির্দেশ না পাঠিয়ে যদি পরিবর্তিত,মাত্রাতিরিক্ত বা শৃংখলা বিহীন ভাবে নির্দেশ পাঠাতে থাকে তখন এই রোগটি দেখা দেয়।
শিশু ভূমিষ্ঠ হবার সময় যদি মাথায় আঘাত পায়তীব্র শ্বাস কষ্ট বা ইনফেকশন হয় তাহলে সেসব ক্ষেত্রে এপিলেপ্সি রোগের সূত্রপাত হতে পারে। বড়দের ক্ষেত্রে মাথায় আঘাত পাওয়াঅসুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,এলকোহল অথবা মস্তিস্কের রক্তনালীর কিছু রোগের (Aneurysm) কারনে এপিলেপ্সি রোগ হতে পারে। তবেঅনেক সময়ই এ রোগের সঠিক কারন জানা যায়না। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী এ রোগের চিকিৎসা করানো উচিত।

Read more »

মাইগ্রেইন (Migraine)


মাইগ্রেইন হলে তীব্র মাথা ব্যথা হয় যা সাধারণত মাথার একদিকে অথবা পিছনের দিকে অনুভূত হয়তবেঅনেক সময় চোখের চারপাশেও ব্যথা থাকতে পারে। এর সাথে প্রায় সময়ই বমি বমি ভাব থাকেকোনোকোনো সময় চোখেও সবকিছু ঝাপসা দেখা যায়। মাইগ্রেইন চক্রাকারে হতে থাকে অর্থাৎ একবার আসে আবারভালো হয়ে যায় তারপর আবার আসে এবং এভাবে চলতেই থাকে।
বয়োঃসন্ধিতে প্রথম মাইগ্রেইন হতে দেখা যায় এবং তা বার্ধক্য হবার আগ পর্যন্ত চলতে পারে।অনেক সময়জন্মনিয়ন্ত্রনের বড়ি বা বিশেষ কোনো খাবার খেলে মাইগ্রেইন শুরু হয়এগুলো মাইগ্রেইন এর প্রেসিপিটেটিংফ্যাক্টর (Precipitating factor) নামে পরিচিত।
নিউরোলজিস্ট (Neurologist) এর তত্ত্বাবধানে মাইগ্রেইন এর চিকিৎসা করানো উচিত। মাইগ্রেইন হলেপ্যারাসিটামল জাতীয় অসুধ খেলে মাথা ব্যথা কমতে পারে। মাইগ্রেইন রোগীর উত্তেজনা নিয়ন্ত্রন করতে হবেসেই সাথে প্রেসিপিটেটিং ফ্যাক্টর পরিহার করতে হবে। ব্যথা খুব বেশী হলে নিউরোলজিস্টগণ প্রপানলল,এমিট্রিপ্টাইলিনমেথিসারজাইড ইত্যাদি অসুধ ব্যবহার করে থাকেন।

Read more »

পারকিনসনিজম (Parkinsonism)


মস্তিস্কের এই রোগটি সম্পর্কে সর্ব প্রথম ধারনা দেন জেমস পারকিনসনআর তার নাম অনুসারেই এই নাম।সারাক্ষন হাত পা কাপাশরীরের মাংসপেশী অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে থাকাস্পর্শকাতরতা কমে যাওয়া এই উপসর্গগুলো সম্পর্কে জেমস পারকিন্সনই সর্বপ্রথম ধারনা দেন।
বিভিন্ন অষুধ বা বিষাক্ত পদার্থের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামস্তিস্কের প্রদাহক্রমাগত মাথায় আঘাত পাওয়া (যেটা Boxerদের হয়ে থাকে), নিউরোসিফিলিসউইলসন ডিজিজহানটিংটন ডিজিজ ইত্যাদি রোগের কারনে পারকিনসনডিজিজ হতে পারে।
 রোগ সাধারনত ৫০ বছরের বেশী বয়সের লোকদের হয়ে থাকে। ভাবলেশহীন মুখ-অবয়বমুখদিয়ে লালাপরাহাটা বা চলাচল শুরু করতে দেরী হওয়াছোটো পদক্ষেপে দ্রুত লয়ে হাটাহাটার সময় হাত না নড়া,হাটতে হাটতে ঘুরতে গেলে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলাসবসময় হাত-পা কাপামাংসপেশী শক্ত হয়ে যাওয়সুক্ষকাজ করার ক্ষমতা হারানো ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত থাকে পারকিনসন রোগীর জীবন।
সিটিস্ক্যান সহ রক্তের আরো কিছু পরীক্ষা করা হয় ঠিক কি কারনে রোগটি হয়েছ তা নির্ণয় করার জন্য।নিউরোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে এই রোগের চিকিৎসা করাতে হয়। যদিও অল্প কিছু অসুধ এই রোগে ব্যবহার করাহয়ফিজিওথেরাপিস্পিচ থেরাপি ইত্যাদির মাধ্যমে পূনর্বাসন করাই হলো চিকিতৎসার মূল লক্ষ্য।

Read more »

মস্তিষ্কের রোগ বালাই


স্ট্রোক (Stroke)

স্ট্রোক (Stroke) রোগটির নাম শুনলে যদিও হার্ট এটাক এর কথা মনে আসেস্ট্রোক আসলে মস্তিস্কের রোগ। মস্তিস্কের কোনো স্থানের রক্ত নালী বন্ধ হয়ে গেলে বা ব্লক হলে ঐ স্থানের রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়ফলে মস্তিস্কের ঐ বিশেষ এলাকা কাজ করতে পারেনা। এটিই স্ট্রোক রোগ। মস্তিস্কের ঐ বিশেষ এলাকাটি শরীরের যে যে অংশকে নিয়ন্ত্রন করতো স্ট্রোক হলে সে সকল অংশের বিভিন্ন অংগ বিকল হয়ে পরে। মস্তিস্কের এক দিক নস্ট হলে শরীরের উল্টো দিক বিকল হয়ে পরে। অর্থাৎ মস্তিস্কের বাম দিকে ক্ষতি হলে শরীরের ডান দিক অচল/অবশ হয়ে যায়।
স্ট্রোক হবার পর এরকম শরীরের এক দিক অচল হবার নাম হেমিপ্লেজিয়া (hemiplegia) আর অবশ হলে বলে হেমিপেরেসিস (hemiparesis)। স্ট্রোক হলেই যে শরীরের কোনো পাশ চিরতরে অচল হয়ে যাবে তা কিন্ত নয়। কিছু ধরনের স্ট্রোক হলে সাময়িক কিছু অসুবিধার পরে মানুষ আবার পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে যায়।
হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্ত চাপধুমপান করাঅনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসরক্তে অতিরিক্ত চর্বিঅতিরিক্ত এলকোহল সেবন ইত্যাদি স্ট্রোকের ঝুকি বহুগুনে বাড়িয়ে থাকে। আগেই বলা হয়েছে যে স্ট্রোক হয় মস্তিস্কের রক্ত নালী বন্ধ হবার কারণে তাই বোঝাই যায় যে যে কারণে রক্তনালী বন্ধ হয় সেই সেই কারণে স্ট্রোক হয়যেমন ধমণীতে চর্বি বা ক্যালসিয়াম জমাটিউমার হওয়াধমণীর প্রদাহ জনিত রোগ ইত্যাদি। এছাড়াও হার্ট বা অন্য ধমণী থেকে জমাট রক্ত ছুটে গিয়ে বা মাথায় আঘাত পাবার কারনেও স্ট্রোক হতে পারে।
স্ট্রোক হলে মাথা ব্যাথাবমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া তো হয়ই সেই সাথে কোনো একপাশের হাত-পা অবশ পা অচল হয়ে যাওয়াবোধহীন হয়ে যাওয়াবাকরুদ্ধ হওয়াকথা জড়িয়ে আসাজ্ঞান হারানো ইত্যাদি উপসর্গ গুলোও দেখা দেয়। বড় ধরনের স্ট্রোক হলে চার হাত-পা ই অবশ বা অচল হয়ে যেতে পারে।
স্ট্রোক এর রোগীকে মস্তিস্কের সিটি স্ক্যান (CT scan) পরীক্ষাটি করতেই হয়এটি দ্বারা ঠিক কোথায় ক্ষতি হয়েছে বোঝা যায়মস্তিস্কের এঞ্জিওগ্রাম (Angiogram) করেও এটা বোঝা লাগতে পারে। অনেক সময় কারন বের করতে ইকোকার্ডিওগ্রাম (Echocardiogram) ও করা লাগেসেই সাথে যেসকল রোগ স্ট্রোক এর ঝুকি বাড়ায় রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করে সে সকল রোগের উপস্থিতি ও অবস্থাও জেনে নিতে হয়।
স্ট্রোক রোগীর চিকিৎসা অবশ্যই একজন নিউরোলজিস্ট (Neurologist) বা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে করানো উচিত। এই রোগের সুনির্দিস্ট এমন কোনো চিকিৎসা নেই যাতে রোগী সাথে সাথে চিরতরে ভালো হয়ে যাবে। ধৈর্য্য ধরে রোগীর সেবা করতে হবেসঠিক পুষ্টি ও তরল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবেঝুকি আছে এমন রোগ গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর পর সবচেয়ে বেশী যেটা প্রয়োজন তা হলো ফিজিওথেরাপি (Physiotherapy) । তবে স্ট্রোক এর অবস্থা বুঝে এর সাথে আরো অন্য চিকিৎসাও যোগ করতে হতে পারে যা অবশ্যই একজন নিউরোলজিস্ট বিবেচনা করবেন।
 

Read more »